ঢাকাসোমবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:০১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুনামগঞ্জে বেসরকারি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সরকারি সহায়তার আবেদন

বিডি আলো ডেস্ক
মে ১৮, ২০২০ ৮:০১ অপরাহ্ণ
পঠিত: 81 বার
Link Copied!

মো. শাহীন আলম, সুনামগঞ্জ::

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংকট কালীন সময়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত বেসরকারি সুনামগঞ্জ জেলার কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহ এককালীন সহযোগীতা অথবা প্রনোদনা চেয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। গতকাল রোববার (১৭ মে) দুপুর ১টায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত বেসিক ট্রেড প্রতিষ্ঠান সমূহের সংগঠন বেসিক ট্রেড স্কীল ডেভেলপমেন্ট ফোরামে’র আহব্বায়ক নিত্যানন্দ সরকার ও সদস্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত স্বারক লিপিতে বর্তমান করোনা ভাইরাস সংকট সময়ে সুনামগঞ্জ সহ সকল জেলার কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংকটময় অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। মহামারী “করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)” থেকে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী চরম অর্থনৈতিক ক্ষতি ও পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।
এসংকটে পড়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বেসিক ট্রেডের আওতাধীন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান /উদ্যোক্তাগন চলমান করোনা সংকট মোকাবেলায় কর্মহীন হয়ে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি কোন অনুদান বা আর্থিক সহযোগিতা পায় না। নিজস্ব অর্থায়নে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো নানা কারণে এখন অর্থনৈতিক দুর্বলতার শিকার। এ প্রতিষ্ঠানগুলো বেশিরভাগ ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বেতন দিয়েই প্রতিষ্ঠানের ভবন ভাড়া, সব ইউটিলিটি বিল এবং প্রশিক্ষক সহ কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু করোনার সংকট কালীন সময়ে সরকারি সিদ্ধান্তে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোন প্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করতে পারবে না বা করতে পারছে না। ফলে চরম অর্থনৈতিক সংকটে এখন এই কারিগরি সেক্টর। সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ২৭টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় তিনশতাধিক পরিচালক/অধ্যক্ষ, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আর্থিক সংকটে দিন যাপন করছে এবং সামাজিক সম্মান ও অবস্থানের কারণে কারও দ্বারস্থ হতেও পারছে না। এ কারণে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারিভাবে সহযোগিতা কামনা করছে।
জাতীয়ভাবে নট্রামসের মাধ্যমে ১৯৮৮ সাল থেকে সারাদেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের কার্যক্রম শুরু হয়। বিগত ২০০১ সালে নট্রামসের কার্যক্রম জাতীয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, এরপর ২০০২ সাল থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বিপুল পরিমান জনসংখ্যাকে কম্পিউটার ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ, ফ্রিল্যান্সার তৈরি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিগত প্রায় ৩২ বছর যাবৎ বেসিক ট্রেডের আওতাধীন আমীনশীপ, সেলাই, শার্টলিপি এবং সর্বাপেক্ষা কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র দূরীকরণ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সুনিশ্চিত উন্নতির অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করছে। দেশ বিদেশে এসব প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাই আজ ভালো অবস্থানে আছেন এবং বলা হয় যেকোন শিক্ষার বেসিক অর্থাৎ মৌলিক শিক্ষাটি ভালো থাকলে সেই বিষয়ের পরবর্তী শিক্ষাটি ভালো হয়, যে কাজটি এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলো নিভূত্বে দেশের কম্পিউটার প্রশিক্ষণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত কাজ করে আসছে। এর ফলে দেশে আত্মনির্ভরশীল ও বেকার সমস্যা দূরীকরণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালনকারী নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া এ প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে স্থবির হয়ে আজ হুমকির সম্মুখীন। ফলে এ সেক্টরে সরকারি সহায়তা ছাড়া সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন।
জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদনপত্র দাখিল করার সময় উপস্থিত ছিলেন, ই-কমার্স এন্ড ডিজিটাল কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মো. শাহীন আলম, আইটি কম্পিউটার একাডেমী’র পরিচালক নাজিম উদ্দিন তালুকদার, জেনুইন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট পরিচালক আব্দুল জব্বার, অক্সফোর্ড কম্পিউটার ইন্সটিটিউট এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’র পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন, ছাতক টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট পরিচালক মোঃ কামরুল হাসান, বিহা কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্সটিটিউট পরিচালক শেখ মোহাম্মদ আলামিন ও আইডিয়াল একাডেমী’র পরিচালক এমদাদুল হক মিলন প্রমুখ।

দৈনিক বাংলাদেশ আলো পত্রিকায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না