ঢাকারবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুড়িগ্রামে শিলাবৃষ্টি, বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে পাকা ধান।

মাহমুদুল হাসান, সাব-এডিটর
মে ২৭, ২০২০ ৮:২৫ অপরাহ্ণ
পঠিত: 28 বার
Link Copied!

মোঃ আলিমুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম,  

 

কুড়িগ্রাম জেলায় গতকাল (২৬ মে) রাত থেকে ব্যাপক হারে শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। শিলাবৃষ্টির কারনে জেলার অনেক জায়গায় বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

 

এসব ফসলের মধ্যে ধান, পাট, ভুট্টাসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজিও রয়েছে। জেলার চিলমারী, নাগেশ্বরী, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি উপজেলায় ব্যাপক ফসল ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় এসব অঞ্চলের কৃষকরা।

 

ফুলবাড়ি উপজেলার কৃষক আনোয়ার জানান, তার ৪ বিঘা জমির পাকা ধান জমির মাটিতে পরে নষ্ট হয়ে গেছে ।বৃষ্টির পূর্বে যারা ধান কেটেছেন তারা আবার টানা বৃষ্টির কারনে উঠানে শুকোতে পারছেন না কাটা ধান,যার ফলে ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন এসব ধানচাষীরা।

 

টানা বৃষ্টির কারণে জেলা সদরের অনেক সবজি বাগানও নষ্ট হয়েছে। সদরের চর কুড়িগ্রাম, কাঁঠালবাড়ি, দাশেরহাট এসব এলাকায় দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে মরিচ, ঢেরস, পাটশাক, করলাসহ অনেক সবজির বাগান নষ্ট হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, শিলাবৃষ্টির কারণে সবজিসহ ধান ও পাট ফসলের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়,গত সপ্তাহের ঘুর্নিঝড় আম্পানের পর থেকে কৃষিতে জেলায় ক্ষতির পরিমান ১কোটি ১৫ লাখ টাকা।এদিকে গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে,জেলার ১৬ টি নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়ে গেছে। যার ফলে অনেক জায়গায় পানি বাড়ার কারণে নদী ভাঙন দেখা গেছে। নদী ভাঙার কারণে সদরের যাত্রাপুরের জন ঘনশ্যাম এর অনেক মানুষের ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়েছে।

 

জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নেও দেখা গেছে একি চিত্র। এ উপজেলার চলতি ভাঙনে নদীগর্ভে ভিটেবাড়ি হারান মো. রুহুল আমীন।তিনি বলছিলেন,”আমার বাড়ি থেকে নদী অনেক দুরে ছিলো। গতিপথ পরিবর্তন হয়ে আমার সবকিছু ভেঙ্গে নিয়ে গেছে।এখন আমি বাঁধের পাশে বাড়ি করেছি। কিন্তু এখানেও নদী আসতে পারে।আমার প্রতিবেশী আইযুব আলী, রফিকুল সহ অনেকের অবস্থা প্রায় একই।

 

নদী ভাঙার এই অবস্থা এখনি যদি রোধ করা না যায় তাহলে ব্যপক ক্ষতি হবার আশংকা আছে বলে মনে করেন এসব অঞ্চলের মানুষ।

 

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় অবস্থিত কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষন অফিস থেকে জানা যায়,গত ২০ মে রাত থেকে গতকাল (২৬ মে) পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টিপাত এর গড় ছিলো ৩০ দশমিক ৯৭ মিলিমিটার। বৃষ্টির সাথে ছিলো ঝড়ো হাওয়া। সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে জেলার নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায়।

দৈনিক বাংলাদেশ আলো পত্রিকায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না