ঢাকারবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:২৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার শাখা নদীতে ব্রীজ নির্মাণের দাবি

মাহমুদুল হাসান, সাব-এডিটর
জুন ১৭, ২০২০ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
পঠিত: 41 বার
Link Copied!

মোঃবিপুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বেলকা-দহবন্দ ইউনিয়নের তালুক বেলকা ও উত্তর ধুমাইটারী গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবহমান তিস্তার শাখা নদীতে ব্রীজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।

 

তিস্তার এই শাখা নদীর উপর ব্রীজ না থাকায় উভয় পাড়ে উপজেলার বেলকা ও দহবন্দ ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছেন। এমনকি নদীর দু’তীরে অবস্থিত দু’টি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধুমাইটারী ফাজিল মাদরাসা ও পঞ্চানন্দ আর ইউ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পারাপারের কারণে সময় মতো ক্লাশে উপস্থিত হতে পারছেনা। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও কোন সমাধান পাচ্ছে না তারা। ফলে উভয় এলাকার মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। এতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষার্থী, রোগীসহ সব ধরণের মানুষকে। এ অবস্থায় এলাকার তরুণ যুব সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে পারাপারের জন্য কাঠের সাঁকো নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। কিন্তু তারা অর্থ সংকটে পড়ে কাজ সমাপ্ত করতে পারছেন না।

 

ধুমাইটারী ফাজিল মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বর্ষাকালে মাদ্রাসায় যেতে খুব কষ্ট হয়। নদীতে নৌকা দিয়ে পারাপারের জন্য অনেক সময় নৌকা পাওয়া যায়না। এতে সময় মতো ক্লাশে উপস্থিত হতে পারেনা অনেকেই। তিস্তার এই শাখা নদীতে ব্রীজ না থাকায় অনেক দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়। একটি ব্রীজ হলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হাজার হাজার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকতে হয়। দ্রুত ব্রীজটি হলে আর কোন দুচিন্তায় থাকতে হবেনা।’

 

এলাকার বাসিন্দা ও কাঠের ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোক্তা আইয়ুব আলী জানান, ‘অনেকবার দাবি জানিয়েও ব্রীজ নির্মাণে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ব্রীজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় যুবক এবং সচেতন নাগরিকদের প্রচেষ্টায় কাঠের সাঁকো নির্মাণের কাজ চলছে। আমরা এখন অর্থ সংকটে ভুগছি। এলাকার সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে আমরা সাকোটির কাজ সম্পন্ন করে চলমান বর্ষায় যাতায়াত করতে পারি।

 

কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একটি ব্রীজের অভাবে ৮টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বিচ্ছিন্ন জীবন-যাপন করছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজের দাবি করেও সমাধান পাচ্ছেনা এলাকাবাসী। নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম নৌকা সবসময় পাওয়া যায় না। নদীর এক পাড়ের মানুষ জরুরী প্রয়োজনেও সহজে অপর পাড়ে যেতে পারছে না। এতে করে প্রতিনিয়ত শিক্ষাথী, রোগীসহ সব ধরণের মানুষকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তারা।

 

বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিলুল্যাহ বলেন, “তিস্তার শাখা নদীর ওই স্থানে ব্রীজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে।”

দৈনিক বাংলাদেশ আলো পত্রিকায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না