ঢাকারবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:৩২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) তে বস্তা সেলাই করে সংসার চলে তাদের”

মাহমুদুল হাসান, সাব-এডিটর
জুন ১৮, ২০২০ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
পঠিত: 95 বার
Link Copied!

মোঃ রাসেদুল ইসলাম হাকিমপুর (হিলি) প্রতিনিধি,দিনাজপুর।

 

বাজারের বিভিন্ন আড়তে বস্তা সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চলছে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিকের । যে যত হাত চালাতে পারবেন তার তত বেশি উপার্জন।

 

হিলি স্থলবন্দরে প্রতিদিন ভারত থেকে আমদানি হয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী। বন্দরে রয়েছে প্রতিটি আমদানি কারকদের পণ্য রাখার গুদাম। সেখানে প্রয়োজন হয় অনেক বস্তার। তাই হিলিতে রয়েছে অনেক বস্তার আড়ৎ।

 

বন্দরের বস্তার আড়ৎগুলো ঘুরে দেখা যায়, ছেঁড়াফাটা ও পুরনো বস্তা সেলাই করছেন বেশকিছু শ্রমিক। আড়তের বারান্দায় বসে সুই এবং সুতলি নিয়ে এসব নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা সেলাই কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তাদের এই কর্ম ব্যস্ততা। যে যত তাাঁতাড়ি সেলাই করবে তার উপার্জন তত বেশি হবে। বেশি ছেঁড়াফাটা বস্তা সেলাইয়ে মজুরি আড়াই থেকে তিন টাকা, অল্প ছেঁড়াফাটা বস্তা দেড় থেকে দুই টাকা, আর সামান্য ছেঁড়াফাটা বস্তায় এক থেকে দেড় টাকা মজুরি পাচ্ছেন তারা।

 

কথা হয় বস্তা সেলাই শ্রমিক মিলন সরকারের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি সাত বছর যাবৎ এই বস্তা সেলাইয়ের কাজ করে আসছি। সংসারে দুই ছেলে, মা-বাবা, ছোট ভাই-বোন ও স্ত্রীসহ ৯ জন খানেওলা (সদস্য)। বোনের এখনও বিয়ে দিতে পারিনি। আমার উপর গোটা সংসার। একদিন বসে থাকলে সংসার চলে না। তাই সংসারের এতোগুলো মানুষের চাহিদা মেটাতে আমাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। আমি নিজেকে একটা যান্ত্রিক মানুষ মনে করি। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ পিস ছেঁড়াফাটা বস্তা সেলাই করি। তা থেকে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা প্রতিদিন উপার্জন হয়। কষ্ট হলেও চলছি কোন রকমে।

 

রেহেনা বেওয়া নামের একজন নারী শ্রমিকের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘প্রায় চার বছর হলো আমার স্বামী মারা গেছেন। বস্তা সেলাইয়ের কাজ করেই দুই মেয়েকে নিয়ে চলছি। পুরুষদের মতো আমি অতো জোরেসোরে হাত চালাইতে পারি না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করি। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ টি বস্তা সেলাই করি। তাতে রোজগার হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। একটা নাতি আমার কাছে থাকে। ছোট মেয়ে এইবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। মানুষের বাড়িতে ভাড়া থাকি। নিজের কোন বাড়িঘর নেই।

 

আরিফ হোসেন নামের শ্রমিক বলেন, ‘আমার বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে চারজনের সংসার। প্রতিদিন যা কামায় হয় তাই দিয়ে চলি, কোন সমস্যা হয় না।

 

কথা হয় বস্তার আড়ৎদার আব্দুল মালেকের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার আড়তে বর্তমান ৪ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি পেয়ে থাকেন। সারাদিন পরিশ্রম শেষে তাদের ন্যায্য মজুরি প্রতিদিন দিয়ে দেই। তাদের ভালমন্দ আমি দেখি। কোন সমস্যা হলে সমাধানের চেষ্টা করি।

দৈনিক বাংলাদেশ আলো পত্রিকায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না