ঢাকারবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:৫৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘পাকা বাড়ি’ পাচ্ছে বাগমারার অনাথ ভাইবোন।

মাহমুদুল হাসান, সাব-এডিটর
জুন ২১, ২০২০ ২:৩৯ অপরাহ্ণ
পঠিত: 17 বার
Link Copied!

বাগমারা পতিনিধিঃ রবিন,

বাগমারার অনাথ ভাইবোনের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে হাজির হলেন বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাদের আর কুঁড়েঘরে থাকতে হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে নতুন পাকা বাড়ি পাচ্ছে তারা। সেই বাড়ির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন ইউএনও শরিফ আহম্মেদ। উপহার পেয়ে খুশি অনাথ ভাইবোন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামে গুঁড়ি গুঁিড় বৃষ্টির মধ্যেই গণিপুর ইউনিয়নের বুজরুককোলা গ্রামের অনাথদের বাড়িতে যান ইউএনও শরিফ আহম্মেদ। সঙ্গে ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান ও একদল নির্মাণ শ্রমিক। তাঁদের আগমনের খবর জানতে পেরে ছুটে আসে অনাথ ভাই-বোন। পরে তাদের জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সুখবর। নিজে উপস্থিত থেকে নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ইউএনও। ‘যার জমি আছে, ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে পাকাবাড়ি’। এই বাড়িতেই থাকতে পারবে অনাথ ভাইবোন আরিফা খাতুন ও রায়হান হোসেন।

ঈদের আগের দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এসেছিল কিছু চাল-ডাল নেওয়ার জন্য। চাল-ডাল এবং কিছু নগদ টাকা দিয়েছেন ইউএনও। এ দিয়েই এবারের ঈদ করবে বলে জানায়। ঈদের দিন তাদের খাবার নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইনে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর অনেকে তাদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে। ওইদিনই খাবার নিয়ে অনেকে হাজির হন তাদের বাড়িতে। এছাড়াও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ও আশ^াস দিয়েছেন অনেকেই।

উপজেলার গণিপুর বুজরুকোলা গ্রামের আবদুল আলীর সন্তান রায়হান হোসেন (১৫) ও আরিফা খাতুন (১৩)। বাবা আবদুল আলী সাত বছর আগে মারা যান। এরপর পক্ষাঘাতগ্রস্ত মা রেহেনা বেগমের আদরে স্নেহে ছিল তারা। স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারতেন না রেহেনা বেগম। এরপরও এখান-ওখান থেকে কিছু সংগ্রহ করে সন্তানদের দেখাশোনা করে আসছিলেন তিনি। তবে দেড় বছর আগে তিনিও মারা যান। সে থেকে অনাথ রায়হান হোসেন ও আরিফা খাতুন। জীবনসংগ্রামে নামতে হয় দুই ভাইবোনকে। বাবার রেখে যাওয়া আধা ভাঙা ভ্যানের প্যাডেল কিছুদিন ঘোরালেও তা বেশি দিন পারেনি রায়হান হোসেন। পরে পেশা পরিবর্তন করে শিশু বয়সে অন্যের পানবরজে কাজ শুরু করে। এত কষ্টের মধ্যে দুচোখভরা স্বপ্ন তাদের। লেখাপড়া শিখে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ জন্য শত কষ্ট করেও চালিয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া। আরিফা খাতুন মচমইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এবং রায়হান হোসেন হাটগাঙ্গোপাড়া টেকনিক্যাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অনাথ আরিফা ও রায়হান আলী তাদের বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া কুঁড়ে ঘরেই থাকে। তারা একটি কক্ষের একপাশে ছাগল, মুরগি নিয়ে থাকত। বৃষ্টির পানিও পড়ত ঘরের ভেতরে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের দুরাবস্তা সরেজমিনে দেখে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে দ্রুত বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেন। এর প্রেক্ষিতে আজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাসুদুর রহমান বলেন, যার জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় বেশকিছু বাড়িঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার অনাথদের দিতে পেরে ভালো লাগছে।

ইউএনও শরিফ আহম্মেদ বলেন, অনাথদের বাড়িতে এসে তাদের থাকার ঘর দেখে কান্না চলে এসেছিল। তারা কত কষ্ট করে থাকে তা দেখে উপলব্ধি করেছি। এরপরেই তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলো। বাড়িটি নির্মাণ হলে আপাতত তারা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।

আরিফা ও রায়হান হোসেন জানায়, ইউএনও স্যার তাদের বাড়ির অতিথি হবেন এতো বড় সুখবর নিয়ে আসবেন তা ভাবতে পারেনি। আগে থাকা-খাওয়ার বড় সমস্যা ছিল। একঘরের একপাশে ছাগল মুরগি নিয়ে তারা ঘুমায়। চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে ছাগলদুটি শোবার ঘরেই রাখতে হয়। বাড়িটি পেলে তিনবেলা খাবার না পেলেও আরামে থাকতে পারবো এটাই বড় শান্তি। এজন্য তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এক পর্যায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলে, বাবা-মা মারা যাওয়ার পর নিজেদের এতিম মেনে নিয়েছিলাম, এখন অনেককে পেয়েছি

বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামে গুঁড়ি গুঁিড় বৃষ্টির মধ্যেই গণিপুর ইউনিয়নের বুজরুককোলা গ্রামের অনাথদের বাড়িতে যান ইউএনও শরিফ আহম্মেদ। সঙ্গে ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান ও একদল নির্মাণ শ্রমিক। তাঁদের আগমনের খবর জানতে পেরে ছুটে আসে অনাথ ভাই-বোন। পরে তাদের জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সুখবর। নিজে উপস্থিত থেকে নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ইউএনও। ‘যার জমি আছে, ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে পাকাবাড়ি’। এই বাড়িতেই থাকতে পারবে অনাথ ভাইবোন আরিফা খাতুন ও রায়হান হোসেন।

ঈদের আগের দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এসেছিল কিছু চাল-ডাল নেওয়ার জন্য। চাল-ডাল এবং কিছু নগদ টাকা দিয়েছেন ইউএনও। এ দিয়েই এবারের ঈদ করবে বলে জানায়। ঈদের দিন তাদের খাবার নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইনে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর অনেকে তাদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে। ওইদিনই খাবার নিয়ে অনেকে হাজির হন তাদের বাড়িতে। এছাড়াও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ও আশ^াস দিয়েছেন অনেকেই।

উপজেলার গণিপুর বুজরুকোলা গ্রামের আবদুল আলীর সন্তান রায়হান হোসেন (১৫) ও আরিফা খাতুন (১৩)। বাবা আবদুল আলী সাত বছর আগে মারা যান। এরপর পক্ষাঘাতগ্রস্ত মা রেহেনা বেগমের আদরে স্নেহে ছিল তারা। স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারতেন না রেহেনা বেগম। এরপরও এখান-ওখান থেকে কিছু সংগ্রহ করে সন্তানদের দেখাশোনা করে আসছিলেন তিনি। তবে দেড় বছর আগে তিনিও মারা যান। সে থেকে অনাথ রায়হান হোসেন ও আরিফা খাতুন। জীবনসংগ্রামে নামতে হয় দুই ভাইবোনকে। বাবার রেখে যাওয়া আধা ভাঙা ভ্যানের প্যাডেল কিছুদিন ঘোরালেও তা বেশি দিন পারেনি রায়হান হোসেন। পরে পেশা পরিবর্তন করে শিশু বয়সে অন্যের পানবরজে কাজ শুরু করে। এত কষ্টের মধ্যে দুচোখভরা স্বপ্ন তাদের। লেখাপড়া শিখে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ জন্য শত কষ্ট করেও চালিয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া। আরিফা খাতুন মচমইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এবং রায়হান হোসেন হাটগাঙ্গোপাড়া টেকনিক্যাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অনাথ আরিফা ও রায়হান আলী তাদের বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া কুঁড়ে ঘরেই থাকে। তারা একটি কক্ষের একপাশে ছাগল, মুরগি নিয়ে থাকত। বৃষ্টির পানিও পড়ত ঘরের ভেতরে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের দুরাবস্তা সরেজমিনে দেখে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে দ্রুত বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেন। এর প্রেক্ষিতে আজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাসুদুর রহমান বলেন, যার জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় বেশকিছু বাড়িঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার অনাথদের দিতে পেরে ভালো লাগছে।

ইউএনও শরিফ আহম্মেদ বলেন, অনাথদের বাড়িতে এসে তাদের থাকার ঘর দেখে কান্না চলে এসেছিল। তারা কত কষ্ট করে থাকে তা দেখে উপলব্ধি করেছি। এরপরেই তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলো। বাড়িটি নির্মাণ হলে আপাতত তারা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।

আরিফা ও রায়হান হোসেন জানায়, ইউএনও স্যার তাদের বাড়ির অতিথি হবেন এতো বড় সুখবর নিয়ে আসবেন তা ভাবতে পারেনি। আগে থাকা-খাওয়ার বড় সমস্যা ছিল। একঘরের একপাশে ছাগল মুরগি নিয়ে তারা ঘুমায়। চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে ছাগলদুটি শোবার ঘরেই রাখতে হয়। বাড়িটি পেলে তিনবেলা খাবার না পেলেও আরামে থাকতে পারবো এটাই বড় শান্তি। এজন্য তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এক পর্যায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলে, বাবা-মা মারা যাওয়ার পর নিজেদের এতিম মেনে নিয়েছিলাম, এখন অনেককে পেয়েছি

দৈনিক বাংলাদেশ আলো পত্রিকায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না