ঢাকারবিবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুনামগঞ্জে হঠাৎ বন্যায় লাখো মানুষ পানিবন্দি ও বিভিন্ন উপজেলার সাথে জেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বিডি আলো ডেস্ক
জুন ২৯, ২০২০ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 62 বার
Link Copied!

মো. শাহীন আলম, সুনামগঞ্জ::

গত কয়েকদিনের টানা অবিরাম বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়তে থাকায় সুনামগঞ্জের লাখো মানুষ পানি বন্ধি অবস্থায় রয়েছেন। জেলায় ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ও ১৪৮টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনে জানিয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা দাড়িঁয়েছে ৪৪ হাজার ১১০টি। কিন্ত বেসরকারী হিসাব মতে লাখো মানুষ পানি বন্ধি রয়েছেন। জেলা শহরসহ ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লা সহ সবকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় শহরের ষোলঘর পয়েন্টস্থ সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে , যা গতকালের চেয়ে রোববার দুপুর পর্যন্ত ২৪ সেন্টিমিটার বেশী বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ছাতক সুনামগঞ্জ ও সিলেটের রাস্তা পানির নীতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে সবচেয়ে বেশী বুঝিতে রয়েছে জেলার ছাতক উপজেলা। এখানে ছাতকের সুরমা নদীতে গত ২৪ ঘন্টায় বিপদসীমার ১৭৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ১৩০ মিরি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই উপজেলায় ইতিমধ্যে তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জ শহরের কাজির পয়েন্ট, উকিলপাড়া, নতুনপাড়া, বড়পাড়া সাহেববাড়ি ঘাট, ষোলঘর হাজিপাড়া, জামতলাসহ অধিকাংশ এলাকার বাসাবাড়ি রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল নেই বলইে চলে। ফলে মানুষজন চরম বিপাকে পড়ে খাদ্য সংকটে ভূগছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলা শহরের সাথে জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের উজ্জলপুরের উত্তরে মূল সড়ক ভেঙ্গে জেলা সদরের সাথে জামালগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও সারা দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া -বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দিরাই শাল্লা ও ছাতক উপজেলার সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কগুলোতে পানি উঠে যাওয়ায় সড়ক পথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সাথে ১১টি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ৩ হাজার ৭৬৫ হেক্টর আউশ ধানের জমি ও ১৮৮ হেক্টর বর্ষাকালীন সবজি ক্ষেত ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান পাউবো বর্তৃপক্ষ। জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব জানান, উপজেলা জরুরী কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বন্যায় প্লাাবিত সকল এলাকায় সরকারি ত্রান সহায়তা প্রদানের জন্য উপজেলার সকল ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে দেয়া সকল নির্দেশনা মোতাবেক কাজ ও তদারকি করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যেভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে তাতে বন্যার আশংঙ্কা থেকে জেলার প্রতিটি উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং বন্যায় কত হাজার পরিবার ঘরবন্দি হয়েছেন তাদের সঠিক পরিসংখ্যান এখনো জানা না গেলে ও প্রায় লাখ মানুষ পানিবন্দি হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এদিকে জেলায় রোপা আমন, সবজি ক্ষেত ও পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ও জানা যায়। জেলা প্রশাসন জেলায় বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৪১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২৯ লাখ টাকা বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের হাতে পৌছে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সহিবুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে গত কয়েকদিনের টানা অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে জেলা শহর সহ কয়েকটি উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যেভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে তাতে বণ্যার একটি আশংঙ্কা রয়েছে বলে জানান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, এই বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন জায়গাতে বাসা বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এজন্য জেলায় ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ও ১৪৮টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা দাড়িঁয়েছে ৪৪ হাজার ১১০টি। জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য ইতিমধ্যে ৪১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২৯ লাখ টাকা বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাহী অফিসারের নিকট পাঠানো হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে তারো করোনা উপসর্গ থাকলে তাকে আলাদা স্থানে রাখার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ করা সহ চিকিৎসা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটি মিটিং করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

দৈনিক বাংলাদেশ আলো পত্রিকায় প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না