সম্ভাবনাময় রেডিও শিল্পীর পোস্টমর্টেম — রতন চৌধুরী


মাহমুদুল হাসান, সাব-এডিটর প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৫, ২০২০, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন /
সম্ভাবনাময় রেডিও শিল্পীর পোস্টমর্টেম — রতন চৌধুরী

সম্ভাবনাময় রেডিও শিল্পীর পোস্টমর্টেম
— রতন চৌধুরী

আশির দশকের কথা। একটি ছোট শিশু পাশের বাসায় নতুন কেনা ক্যাসেট (রেডিও কাম রেকর্ডার) থেকে প্রায়ই একটি গান শুনতে শুনতে মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। গানটি ছিল এমন-

‘যাবার আগে, দোহাই লাগে, একবার ফিরে চাও
আবার তুমি আসবে কবে, আমায় কথা দাও…’

শিশুটি প্রায় সারাক্ষণই গুনগুন করে গানটি করতো আর ভাবতো, সে যদি রেডিওতে এমন করে গানটি গেতে পারতো! কিন্তু কি করে তা সম্ভব। অতটুকু রেডিওর মধ্যে ঢুকবে কেমন করে সে। আবার না ঢুকলে তো রেডিওতে গানও করা সম্ভব না। শেষে অনেক ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিলো, যদি তার মাথাটা কেটে ওই রেডিওতে ঢুকিয়ে দেয়া যায় তাহলে মন্দ হবে না। অন্তত মাথাটা ওই রেডিওর মধ্যে স্থান করে নিতে পারবে। তখন সবাই তার গান শুনবে। বেশ মজাই হবে। যা পরিকল্পনা তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই সে চুপি চুপি পাশের বাসায় গিয়ে রেডিওর কাছে যেয়ে নিজের মাথার মাপ দিয়ে আসতো। সিদ্ধান্ত পাকা হলো, তা করা সম্ভব। কিন্তু মাথাটা কাটবে কে আর রেডিওতে ঢুকিয়েই বা দিবে কে? রেডিওর ওই ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে কোনোভাবেই ভিতরে যাওয়া সম্ভব না। অগত্যা সব পরিকল্পনা শেয়ার করলো তার বাবার কাছে। বাবা তাকে বলেছিল, তুমি বড় হও। বড় হয়ে মস্তবড়ো শিল্পী হবে। তখন তোমার গান দেশের সবাই শুনবে। গলা কেটে কোনো শিল্পী রেডিওতে যায়নি, আর এভাবে শিল্পী হওয়া যায় না বাবা। আরো অনেক উপদেশ বাক্য সেদিন শুনতে হয়েছিল তাকে। সব শুনে কিছুটা লজ্জাও কাজ করছিল। সেদিনই সন্ধ্যায় সারদা পুলিশ ট্রেনিং এর পাশে পদ্মা পাড়ে নিয়ে গিয়ে শিশুটির বাবা তাকে রাজশাহী বেতারের সুউচ্চ টাওয়ারের লাল বাতিটা দেখিয়েছিল। আর বিস্তারিত বলেছিল রেডিও সম্পর্কে। শিশুটি মনে মনে কষ্ট পেয়েছিল। অনেক দিনের পরিকল্পনায় বাধা বলে কথা। সেই যে ছেদ পড়লো, আমি আজও রেডিও শিল্পী হতে পারিনি।