রাজশাহীতে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন


বিডি আলো ডেস্ক প্রকাশের সময় : মার্চ ২৩, ২০২১, ৮:৫৪ অপরাহ্ন /
রাজশাহীতে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নাহিদ ইসলাম রাজশাহী প্রতিনিধি

 

একাধিকবার হয়রানির শিকার হয়েছেন রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের দারা এমন অভিযোগ নিয়ে ২৩ মার্চ দুপুর ১২টায় রাজশাহী মহানগরির অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী খাইরুলের মেয়ে শিরিন সুলতানা।

 

বোয়ালিয়া মডেল থানা এলাকার নিউমার্কেট সংলগ্ন শষ্টিতলার খাইরুলের মেয়ে শিরিন সুলতানা জানান ২০১৮ সাল থেকে আমাদের পারিবারিক জমি জায়গার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে অমিল চলছিল ২০২০ সালে সেই বিষয়টি বড় আকার ধারন করে।

 

স্থানিয় কাউন্সিলর সহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা সেই জায়গার উপরে থাকা দোকান চারভাগে বিভক্ত করেদেন। স্থানিয়দের শালিসে সকল পক্ষ সম্মতি দিয়ে সাক্ষর করলেও পরবর্তীতে মমতাজ নাহার শাজাহান, রেজাউল করিম জুয়েল, শামিমা সুলতানা শিউলি,এজাজুল করিম রাসেল নামের পক্ষ কোন প্রকার শালিসি না মেনে তাদের ইচ্ছে মত দোকান গোদাগাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম কে ভাড়াদেন।

 

উল্লেখিত জায়গার উপর কোন প্রকার কাজ করা যাবেনা মর্মে আদালত একটি ১৪৪ ধারার আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অমান্য করে মমতাজ নাহারের পক্ষ আবারো সেই জায়গার উপর কাজ শুরু করেন। আদালত অমান্য করার বিষয়টি শিরিন সুলতানা ও তার পরিবার বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণকে অবহিত করলে ওসি বলেন আমাদের তেমন কিছু করার নেই, তিনি বলেন আমরা লিখিত আকারে কোর্টে পাঠাব। আপনারা ১৪৫এর আদেশ কোর্ট থেকে নিয়ে আসুন।

 

আমরা আবারো ১৪৫ এর আদেশ নিয়ে আসি। তার পরেও সেই জায়গার উপর কাজ করতে থাকেন তারা। আমরা বোয়ালিয়া থানাকে আবারো অবগত করলে ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণ বলেন এই বিষয়ে আমাদের কোন করনীয় নেই। আদালতের আদেশ মতে সেই জায়গার সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে ওসির সহযোগিতা চাইলে ওসি বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদান করেন শিরিন সুলতানাকে।

 

উল্টো বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা হবে বলে জানিয়ে দেন। জাহাঙ্গীর আলম দোকান ঘর ভাড়া নিয়েই ঘরের ভেতরে ভাংচুর সহ কার্যক্রম শুরু করেন। থানা থেকে কোনপ্রকার সেবা না পেয়ে শিরিন সুলতানা ২১ মার্চ জরুরি সেবার জন্য ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে উপরের নির্দেশে বোয়ালিয়া মডেল থানার এস আই শরিফুল উল্লেখিত জায়গার উপর এসে সকল কার্যক্রম বন্ধ করেদেন।

 

শিরিন সুলতানা বলেন এই নিয়ে এস আই শরিফুলকে ওসি অনেক ভাবে রাগারাগি করেন। পরে ওসির নির্দেশে আবারো উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম দোকান ঘরে কাজ শুরু করেন। পরের দিন ২১ মার্চ আবারো শিরিন সুলতানা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে সেখান থেকে বোয়ালিয়া মডেল থানার ডিউটি অফিসার কে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশনা দেন।

 

কিন্তু অজ্ঞাত কারনে পুলিশ আসেনি বা কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। শিরিন সুলতানা বলেন ৭বার ফোন করেওে পুলিশ আসেনি। তিনি বলেন ২২ মার্চ আমি ও আমার মা রাজশাহী পুলিশ কমিশনারের নিকট যাই দেখাকরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসি। সেখানে পুলিশ কমিশনার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সহকারি পুলিশ কমিশনার বোয়ালিয়াকে নির্দেশনা দেন।

 

কিন্তু আমরা আসার পরে আর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আদালতের আদেশ সহ সকল বিষয় উপেক্ষা করে দোকান ঘরের কাজ করায় এলাকা বাসিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। শিরিন সুলতানার মা বলেন বর্তমান দোকানের ভাড়াটিয়া জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগিতাতেই শিরিন সুলতানার পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।

 

বোয়ালিয়া থানা সুত্রে জানা গেছে এই ঘটনার নিস্পত্তি নিয়ে একাধিক বার স্থানিয়রা বসেও প্রতিপক্ষের উদাসিনতার কারনে কোন সুরহা হয়নি।