ডায়রিয়ায় চরফ্যাসনে স্যালাইন সংকট, বেশি দামে বিক্রী ফার্মেসীতে


বিডি আলো ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২০, ২০২১, ৬:৫৪ অপরাহ্ন /
ডায়রিয়ায় চরফ্যাসনে স্যালাইন সংকট, বেশি দামে বিক্রী ফার্মেসীতে

জেলা প্রতিবেদকঃভোলা

ডায়রিয়া ও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা খুব দ্রুতই বেড়ে যাচ্ছে চরফ্যাসন উপজেলায়। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ি দ্বিতীয় ধাপে প্রায় শতাধীক রোগী করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসলে নমুনা পরিক্ষায় মঙ্গলবার (২০এপ্রিল) পর্যন্ত ২৭ জনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। এছাড়াও ডায়রিয়াসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে ৩০জন রোগী ভর্তি হয় এ হাসপাতালে।

হাসপাতালের তথ্যে ২৭জন করোনায় আক্রান্ত হলেও ভোলা বরিশাল হাসপাতালসহ বেশিরভাগ রোগীই এখন পর্যন্ত হোম আইসোলেশনে রয়েছে।

চরফ্যাসনে করোনা ও ডায়রিয়ার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে।

ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় হটাৎ করেই স্যালাইন নিয়ে তুঘলকি কান্ড চলছে বাজারের ফার্মেসীগুলোতে। বাজারের একাধীক ফার্মেসীতে উধাও হয়ে গেছে খাবার স্যালাইনসহ শরিরে প্রয়োগকৃত স্যালাইন।

আবার কোথাও কোথাও কৃতৃম সংকট তৈরী করে ৯১ টাকার এক হাজার এমএল’র স্যালাইন ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রী করছে।

উপজেলার হাটবাজার ঘুরে জানা গেছে,সপ্তাহখানেক আগেও বিভিন্ন কোম্পানীর প্রতী লিটার স্যালাইন বিক্রী হয়েছে ৯০টাকায় যা বর্তমানে রোগীদের কাছ থেকে সংকট দেখিয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রী হচ্ছে বলেও একাধীক অভিযোগ রয়েছে।

বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানান, ওষুধ কোম্পানীর স্যালাইন সাপ্লাই না থাকায় দেশের বিভিন্ন পাইকারী বাজার থেকে চরা দামে স্যালাইন সংগ্রহ করায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।

বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী উৎপল জানান, মাকের্টে এক হাজার এমএলএ’র স্যালাইন সংকট রয়েছে তবে ৫০০ এমএল’র স্যালইন রয়েছে যা এমআরপি মূল্যেই বিক্রী হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী জানান, অসাধু চক্রগুলো কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে মূল্য বেশি রাখতে পাড়ে। তবে কোম্পানীর সাপ্লাই কম রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে চরফ্যাসন সদর হাসপাতালসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে এ পর্যন্ত ২হাজার ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালের দৈনিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর আগমনের চিত্র দেখে ধারণা করা যায় গ্রাম্য এলাকায় ডায়রিয়া মহামারির আকার ধারণ করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন জলবায়ুর প্রভাব সম্বলীত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সম্প্রতী পূর্রিমার প্রভাবে স্থানিয় নদী ও জলাশয়ে লবনাক্ত পানি প্রবেশ করার ফলে ওই পানি গ্রাম ও চরাঞ্চলের মানুষ রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করায় ডায়রিয়ার প্রকোপ আকার ধারণ করেছে।

উপজেলার ৭লাখ মানুষের জন্য একটি মাত্র সরকারি হাসপাতাল থাকায় অনেক রোগীরা হাসপাতালের শয্যা সংকটে বেসরকারি হাসপাতাল ও গ্রাম্য ডাক্তারদেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিচ্ছিন্ন চর মুজিব নগরের পল্লী চিকিৎসক নসু মাঝি জানান, ডায়রিয়ার ধরন অনুযায়ি প্রতি রোগীকে মোটামুটি সুস্থ করতে ১০ থেকে ১৫টি স্যালাইনের প্রয়োজন হচ্ছে। যা এই চরেও সংকট রয়েছে।

এদিকে স্থানিয় সাংসদ যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয়ে সংসদিয় স্থায়ি কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব গত ২দিনের ডায়রিয়া সম্পর্কিত সংবাদ পেয়ে জেলা সিভিল সার্জন ও চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুব কবিরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে মুঠোফোনে আলোচনা করেন।

চরফ্যাসন সরকারি হাসপাতালের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল কর্মকর্তা ডাক্তার আবদুল হাই বলেন, প্রতিদিন ২ থেকে ৩জনের করোনা পজেটিভ আসছে। করোনার দ্বিতিয় ধাপে এ পর্যন্ত সর্বমোট ২৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গত বছরের মার্চ থেকে এপর্যন্ত চরফ্যাশনে ৮৭ জন করেনায় আক্রান্ত হয়। দ্বিতীয় ধাপের করোনায় ৭৮জনের নমুনা পরিক্ষা করা হলে ২৭জনের করোনা পজেটিভ হয়েছে।